Tuesday, June 27, 2017

নাস্তিকদের নাস্তিক্যবাদ এর জবাবঃ

®→ নাস্তিকরা প্রশ্ন করে কোথায় আল্লাহ?
আল্লাহ বলেন, আল্লাহকে নিয়ে গবেষণা না করে আল্লাহর সৃষ্টিকে নিয়ে গবেষণা করো। (আল-কুরআন)

®→ কারণ তাকে নিয়ে তোমার মত ক্ষুদ্র সৃষ্টি কি গবেষণা করার ক্ষমতা রাখে? যিনি কিনা সমস্ত বিশ্ব-ভ্রাম্যন্ড সহ সমস্ত মহাকাশ, ছায়াপথ আর গ্রহনক্ষাত্রিপুঞ্জ সৃষ্টি করেছেন?

®→ কখনো কি দেখেছো পিপীলিকা মহাবিশ্ব ঘুরার স্বপ্ন দেখে কিংবা এক ফোটা জল সমস্ত মহাসমুদ্রসমূহে নিজের আয়তণ/অবস্থান নিয়ে গর্ব করার ক্ষমতা রাখে?

®→ তোমার যে Cerebral Hemisphere (মস্তিষ্ক) আল্লাহকে সিজদার shape এ সৃষ্টি করা হয়েছে, যে মস্তিষ্ক তোমার প্রভুকে সিজদায় রত তুমি কেন কর না?

®→ যে প্রভু মস্তিষ্কের কোটি কোটি Neurons cell সৃষ্টি করেছেন, সেই Neurons কিভাবে প্রভুর অস্বীকারকারী হয়? গোস্তাখীকারী হয় একবারো ভাবো না?

®→ আরো নিদর্শন দেখো বাস্তব যা তোমার চোখের সম্মুখে রয়েছে -
"রমজান শুরু হল, রহমতের বৃষ্টিও শুরু, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া" আর রমজান শেষ বৃষ্টিও শেষ, তীব্র দাবদাহ শুরু।"
এখন তুমি বলবে বৃষ্টিতে ঘুর্নিঝরও এসেছিল, মানুষের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। হ্যা, তুমি বৃষ্টির সে ভয়ংকর কুতসিৎ রুপগুলোই দেখেছ যেমন তোমার ভয়ানক কুতসিৎ তোমার মন কারণ তুমি নাস্তিক।

®→ এজন্যই আল্লাহ পাক বারবার বলেছেন,"তোমরা তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? (আর-রহমান)

Monday, June 19, 2017

বিখ্যাত মনীষীগণের নবীপ্রেমের দৃষ্টান্তঃ



কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করে 

— সূরা নিসা, আয়াত-৮০

অতএব রাসূল (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে আল্লাহর প্রতিই সম্মান প্রদর্শন করা হয়। 

পৃথিবীর সৎ চরিত্রবান আল্লাহ বিশ্বাসী ত্যাগী নির্লোভ ভালো লোকদের সম্মান করার জন্য আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ বিপ্লবী সুফি নেতা মওলানা ভাসানী হুজুর (রহ.) তার ভক্ত-মুরিদদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। সমগ্র সৃষ্টি জগতের ওপর রহমত বর্ষণকারী ও মানব জাতির কল্যাণ এবং মুক্তিকামী আল্লাহর প্রেরিত সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি তার আধ্যাত্মিক অনুসারীদের সদাসর্বদা নিঃস্বার্থ ত্যাগ, ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্যও তিনি নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। 

ঈদে মিলাদুন্নবীতে মওলানা ভাসানী হুজুর (রহ.) তার ভক্ত-অনুসারীদের নিয়ে নিজেই মিলাদ পাঠ করতেন। আমরা যারা তার সঙ্গে ছিলাম, সবাই মিলাদ মাহফিলে শরিক হতাম। নবী (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য মিলাদ মাহফিলে হুজুর ভাসানী কিয়াম করতেন। আমরাও তার সঙ্গে কিয়াম করতাম। কিয়াম অর্থ আদব বা সম্মান রক্ষার্থে দাঁড়ানো। এ আদব রক্ষা করা ইবাদতের অংশ প্রেমিকদের জন্য। হুজুর ভাসানী বলতেন, নবী (সা.)-এর প্রতি যারা এ আদব রক্ষা করবে না তারা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকবে। নূরে মোহাম্মদীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করতে হুকুম দিলেন আল্লাহ পাক। সব ফেরেশতা সিজদা করলেন আদমকে (আ.)। কিন্তু ইবলিশ আপত্তি উত্থাপন করে বলল, আমি আগুনের তৈরি এবং তার চেয়ে উত্তম। অতএব আমি সিজদা করব না। দুর্ভাগা ইবলিশ শয়তান বুঝল না যে, এটা না করে সে স্বয়ং আল্লাহর হুকুমকে অমান্য করল। আল্লাহ যে মাটির আদমের ভেতরে নূরে মোহাম্মাদীর নূরকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন এটা সে বুঝতে পারল না। সে পথভ্রষ্ট ও আল্লাহতায়ালার অভিশাপে অভিশপ্ত হল। এ কারণে শয়তান যুক্তি ও কূট তর্কের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বদ্ধপরিকর হয়। মওলানা ভাসানী হুজুর (রহ.) বলেন, নবী-বিদ্বেষীদের শত ইবাদতও কোনো কাজে আসবে না। ওরা আল্লাহর সহজ-সরল, সত্য-সুন্দর পথকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখবে। কারণ ওদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। এদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, 

তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করেছেন ও তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাচারী 

— সূরা বাকারা, আয়াত : ১০

মুর্শীদ মওলানা হুজুর ভাসানী (রহ.) আরও বলেছেন, নবী বিদ্বেষের মহাব্যাধি যার হৃয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে- সে অন্ধকারের ভয়াবহ অতল গহ্বরে পতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ ইবলিশ শয়তান। সে আদব নষ্ট করে বেয়াদবের খাতায় নাম লিখিয়ে চিরতরে জাহান্নামি হয়ে গেছে। অতএব যারা নবীর প্রতি আদব রক্ষা করে চলবেন তারা থাকবেন ফেরেশতাদের কাতারে। আর যারা তা রক্ষা করবে না তারা থাকবে ইবলিশের কাতারে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা রুমী বলেন : 

আয় খোদা খাহিমে তাওফিকে আদব 

বেয়াদব মাহ্রুম মানাদ আয লুতফে রব। 

অর্থাৎ : ‘হে খোদা! আমাকে আদব রক্ষা করার তাওফিক দাও। কারণ বেয়াদব আল্লাহর করুণা থেকে বঞ্চিত থাকে।’ 

মদিনার আউস গোত্রের সর্দার ছিলেন হজরত সাআদ বিন মুয়াজ (রা.)। বনু কোরাইযার যুদ্ধে হজরত সাআদকে তারা সালিশি মানে। যে কারণে হজরত সাআদকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে পাঠান। হজরত সাআদ (রা.) যখন মসজিদের সামনে এসে পৌঁছলেন, তখন হুজুর আলাইহিস সাল্লাম আনসার সাহাবিদের নির্দেশ দিলেন তোমাদের সর্দারের প্রতি সম্মানার্থে সবাই দাঁড়িয়ে যাও। নবী (সা.)-এর এ কথায় উপস্থিত সাহাবিরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান দেখান। তাকে সওয়ারি থেকে তারা নামিয়ে আনেন [বোখারি শরিফ] এটা ছিল একজন সর্দারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কিয়াম। 

হজরত ওসমান (রা.) হুজুর নবীয়ে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত হওয়ার কারণে নাজাত সম্পর্কে একটি মাসআলা নবী পাকের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারেননি বলে খুবই চিন্তাযুক্ত ছিলেন। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এ কথা জানতে পেরে হজরত ওসমানকে (রা.) বললেন, আপনার ওই বিষয়ে হজরত নবী পাকের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম। এ কথা শুনে হজরত ওসমান (রা.) হজরত আবু বকরের (রা.) সম্মানে তাৎক্ষণিকভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন। 

আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক উভয় দিক দিয়ে নবীকে (সা.) সঠিকভাবে জানতে হুজুর ভাসানী (রহ.) আমাদের বিভিন্ন মনীষীর জীবন-দর্শন অধ্যয়নে উৎসাহিত করতেন। মওলানা জালাল উদ্দিন রুমী, ইবনুল আরাবী, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, আল্লামা আজাদ সোবহানী, ইমাম গাজ্জালি, হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.), সাহাবি (রা.) ও আল্লামা কবি ইকবালের নাম উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে আল্লামা দার্শনিক কবি ইকবাল নবী (সা.) সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন- 

আবদু দিগার আবদুহু চিজে দিগার। 


ই-ছেরাপাঁ এন্তেজার উঁ মুন্তাজার।
অর্থাৎ, ‘আবদুন’ এক জিনিস আর ‘আবদুহু’ অন্য জিনিস। আল্লাহকে রাজি বা সন্তুষ্ট করানোর জন্য যিনি ব্যস্ত থাকেন তিনি আবদুন, আর যাকে রাজি বা সন্তুষ্ট করানোর জন্য স্বয়ং আল্লাহ ব্যস্ত থাকেন তিনি আবদুহু [সোবহানাল্লাহ] এতে বুঝা যায় সব মোমিন ‘আবদুন’, আর নবীয়েদোজাহাঁ শাফিয়ে মজরেমা হলেন, ‘আবদুহু’। যেমন কলেমায় বলা হয়েছে- আবদুহু ওয়ারাসূলুহু। কোরআন পাকে বলা হয়েছে- আসরা বিআবদিহি। সুতরাং যারা মাওলানা হয়েছেন, মুফতির সাইন বোর্ড লাগিয়েছেন, চিন্তাবিদ মুসলিম দার্শনিক নাম ধারণ করে কোরআন হাদিসের মুখপাত্র হয়েছেন, কিন্তু আবদুন আর আবদুহুর পার্থক্য করতে পারেননি এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কী হতে পারে? তাদের মুসলিম দার্শনিক আল্লামা কবি ইকবালের বই পড়তে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। নবী (সা.)-এর মর্যাদা ও মর্তবা সম্পর্কে আল্লামা ইকবাল আরও বলেন :
আবদুহু দাহরাস্ত দাহরাস্ত আবদুহু
মাহুমা রংগিমে দাদরে রংগে বু॥
আবদুহু চান্দ ও চেগুনে কায়েনাত।
আবদুহু রাজে দারুণে কায়েনাত॥
কাসযা সিররি আবদুহু আগাহে নিস্ত।
আবদুহু জুয্ সিররি ইল্লাল্লাহ্ নিস্ত॥
আবদুহু সুরতে গার তাকদিরে হাস্ত।
আন্দার-ই-তাখরিবে হাতামিরে হাস্ত।
মদয়ী পয়দা নাহ্গার দোজি দোবায়াত।
তানাহ্ বীনি আয মাকামে মা রামায়াত॥
অর্থাৎ : জামানা হল ‘আবদুহু’, আর ‘আবদুহু’ থেকেই জামানার অস্তিত্ব। আমরা সব সৃষ্টি ভিন্ন রং ও বর্ণের। কিন্তু আবদুহু অর্থাৎ মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া লিহি ওয়া সাল্লাম সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সৃষ্টির সব কিছুই আবদুহু। আর আবদুহু গোটা জাহানের গুপ্ত ভেদ। কেউই আবদুহুর গোপন ভেদ তত্ত্ব সম্পর্কে অবগত নয়। কেননা আবদুহু তো ইল্লাল্লাহুর গুপ্ত ভেদ ছাড়া আর কিছুই নয়। আবদুহু সব তকদিরের ছবি অংকনকারী। আর এর সারমর্ম অনুধাবন করতে পারবে না, যতক্ষণ তুমি মাকামে ‘মা, রামাইয়াতা’ অবলোকন না করবে। (শানে হাবীবুর রহমান পৃঃ ১১৩)
আল্লামা রুমী (রহ.) বলেন :
কারে পাকা বা কেয়াস আজ খোদ মাগির।
গারচেহ মানাদ দার নাবিশতান শেরও শির॥
শির আবাশাদ কেহ্ মরদাম মী দারাদ।
শের আ বাশাদ কেহ মরদাম্ মী খোরাদ॥
অর্থাৎ, ফার্সি ভাষায় শের ও শির একই রকমে ও একই হরফে লেখা কিন্তু অর্থ ভিন্ন। শির অর্থ দুধ, যা মানুষে পান করে। আর শের অর্থ বাঘ, যে মানুষকে খায়। যদিও তার একই বানান, কিন্তু উচ্চারণে ও অর্থে পার্থক্য আসমান আর জমিন। আমরাও বান্দা, নবীও বান্দা, কিন্তু বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য এতে ব্যবধান রয়েছে আসমান ও জমিন অথবা তার চেয়েও বেশি। (জিকরে জামিল- পৃ. ২৯৬, মাকামে নবুয়ত পৃ. ৬১)
মওলানা জালাল উদ্দিন রুমী আরও বলেন,
হামসেরি বা আম্বিয়া বর দাশতান্দ
আউলিয়ারা হাম চুঁ খোদ পান দাশতান্দ॥
অর্থাৎ, নিজেদের ভুল ধারণাবশত কখনও তারা সম্মানিত নবীকে নিজেদের মতো মানুষ মনে করে। আবার কখনও নিজেদের আউলিয়াদের সমকক্ষ মনে করে।
আশকিয়ারা দিদায়ে বীনা নাবুদ,
নেক ও বদদর দিদাহ্ শাহ্ একসাঁ নামুদ।
অর্থাৎ, বদবখত লোকেরা সত্য দেখা থেকে বঞ্চিত থাকে। এ জন্য তাদের চোখে ভালো-মন্দ একই রকম অনুভব হয়। নবী বিদ্বেষ অন্তরে থাকার কারণে তাদের বিবেক-বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়। এরা সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে পারে না। (জিকরে জামিল পৃ. ২৯৭, মাকতুবাত শরিফ উর্দু ২য় খণ্ড পৃ. ১৫০)
গোফতে ইনাকমা বাশার ঈশা বাশার,
মা ও ঈশা বোস্তানে খাঁ বীমত্ত খোর।
অর্থাৎ, বেকুবেরা বুঝে না, তারা বলে আমরাও মানুষ, তিনিও মানুষ। আমরাও খাই, ঘুমাই তিনিও খান, ঘুমান, তবে পার্থক্য কোথায়? রাসূলের (সা.) সঙ্গে সৃষ্টি জগতের কারও তুলনা হতে পারে না। রাসূল (সা.) হলেন অতুলনীয়। নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যম ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। নবী (সা.)-এর সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য না করলে কখনও মুমিন মুসলিম হওয়া যাবে না। পবিত্র কোরআন পাকে বলা হয়েছে :
হে মুহাম্মদ! আপনার রবের শপথ। তারা কখনও মুমিন নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না পারস্পরিক বিরোধ-মীমাংসার ক্ষেত্রে আপনাকে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হাকিম হিসেবে মেনে না নেয় এবং পূর্ণ আÍসমর্পণের মানসিকতা নিয়ে নিঃসংকোচে আপনার ফয়সালাকে গ্রহণ না করে ।
— সূরা নিসা, আয়াত-৬৫
এতে নবী (সা.) এর কাছে নিঃশর্ত নিঃসংকোচ আÍসমর্পণকেই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা হল বলে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত হল। 
তথ্যসূত্র
লেখক : হুজুর ভাসানী (রহ.) এর স্নেহধন্য, মওলানা ভাসানী আদর্শ অনুশীলন পরিষদের সভাপতি ও গবেষক।

Sunday, June 18, 2017

৭৩ দল সম্পর্কে বর্নিত হাদিসঃ সঠিক কারা ভ্রান্ত কারা? (পর্ব ১)

Written by (Masum Billah Sunny)

দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড না করার আদেশঃ


নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা`আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে।
(The Cattle (Al-Anàam)/159)

যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত।
(The Romans (Ar-Rüm)/32)

অতঃপর তাদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের দুর্ভোগ
(Gold Adornments (Az-Zukhruf)/65)

আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।
(Surah Al-Imran. 3/103)


নোট : এর থেকে বুঝা যায় যেই দলটা জান্নাতী হবে তারা দ্বীন ইসলামের মধ্যেই আছে ,আর থাকবে। 
তারা দ্বীনকে খন্ড করবে না কিন্তু বাতিল যারা তারাই খন্ড করে আলাদা হয়ে যাবে।

৭৩ ফির্কার আবির্ভাবঃ

® হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আমার উম্মত তা’ই করবে যা করেছে বনী ইসরাঈলের লোকেরা। এক জুতা অপর জুতার সমান হওয়ার মত। এমনকি যদি ওদের মাঝে কেউ মায়ের সাথে প্রকাশ্যে জিনা করে থাকে, তাহলে এই উম্মতের মাঝেও এরকম ব্যক্তি হবে যে একাজটি করবে। আর নিশ্চয় বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত। আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। এই সব দলই হবে জাহান্নামী একটি দল ছাড়া। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন-সেই দলটি কারা? নবীজী সাঃ বললেন-যারা আমার ও আমার সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করবে।

★ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১,
★ আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯,
★ আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯,
★ কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০



® হাদিসের ব্যখ্যানুসারে পাওয়া যায়ঃ-
→ পূর্বের উম্মত যাই করেছে এই উম্মতও তাই করবে নাফরমানীর দিক থেকে। তথা ওরা যত পদ্ধতিতে নাফরমানী করেছে এই উম্মতও সেই পদ্ধতীতে নাফরমানী করবে। 
→ সুতরাং আল্লাহর নাফরমানী করার ৭১টি পদ্ধতিওয়ালা বাতিল ফিরক্বা পূর্ব উম্মত থেকে গ্রহণ করবে এই উম্মত। 
→ তথা ৭১টি বাতিল ফিরক্বার মত ও পথ পূর্ব উম্মতের মত এই উম্মতেও থাকবে।
→ আর জান্নাতী ছিল পূর্ব উম্মতের ৭২ ফিরক্বার মাঝে একটি ফিরক্বা। 
সেটিও এ উম্মতে পূর্ব পদ্ধতি অনুযায়ী থাকবে। 

→ শুধু বাড়বে একটি বাতিল ফিরক্বা এই উম্মতে। যেই বাতিল ফিরক্বার কোন নজীর পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না। সেই বর্ধিত বাতিল ফিরক্বাটি কারা? আল্লামা কুরতুবী রহঃ তার প্রণীত তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন-


. وقد قال بعض العلماء العارفين : هذه الفرقة التي زادت في فرق أمة محمد صلى الله عليه وسلم هم قوم يعادون العلماء ويبغضون الفقهاء ، ولم يكن ذلك قط في الأمم السالفة.( الجامع لأحكام القرآن
المؤلف : أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى : 671)

যেই ফিরক্বাটি উম্মতে মুহাম্মদীদে বাড়বে তারা হল-যারা ওলামাদের সাথে শত্রুতা করবে, আর ফুক্বাহাদের প্রতি রাখবে বিদ্বেষ। এই গ্রপটি পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না। 
{তাফসীরে কুরতুবী, সূরাতুল আনআম)

Note: এখনকার ওহাবী সালাফীরা কি করে? তারা বলে যে শুধু কুরআন ও সহিহ হাদিস মানি কোন ইমাম মানি না। ইমামগন নাকি ভুল করতে পারে আর তারা সঠিক ব্যখ্যা জানে তাই তাদের ইমাম লাগে না।



রাসুল সাঃ আরো বলেন , নিশ্চয় আমার উম্মাতের মধ্যে এমন দলসমুহ বাহির হইবে যে, 
→ উহাদের মধ্যে বদ আকিদা নাফছানি খাহেশাত এমন ভাবে সংক্রামিত হইবে যেমন পাগলা কুকুরের বিশ সংক্রামিত হয় দংশিত ব্যক্তির মধ্যে।
→ কু-আকিদা ও কু-রিপুসমুহ ঐ গোমরাহ লোকদের প্রতিটি নাড়ী নক্ষত্র ও প্রত্যেক গ্রন্থিতে সংক্রামিত হইবে।
(আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণীত)

হযরত গাউসে পাক আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর রায়ঃ

★ হযরত গাউসে পাক আব্দুল কাদির জিলানী (রঃ) ওনার “গুনিয়াতুত ত্বালেবীন” নামক কিতাব এ লিখেন, ৭৩ ফেরকা মুলতঃ মুল দশটি ফেরকার শাখা প্রশাখা। সেই দশটি ফেরকা হইলঃ 
(১) আহলে সুন্নাত, 
(২) খারেজী
(৩)শিয়া বা রাফেজী, 
(৪) মোতায়েলা , 
(৫) মারযিয়া, 
(৬) মুশাব্বাহা, 
(৭) জাহমিয়া, 
(৮) জারারিয়া, 
(৯) নাজ্জারিয়া, 
(১০)কালাবিয়াহ।
আহলে সুন্নাত বা সুন্নি জামাতের কোন শাখা প্রশাখা নাই। ৪টি মাযহাব কোনো দল নয় বরং এটা ফিকাহ একেকটা ফিকাহ এর স্কুলের মত। তাদের সবার আকীদা একই। 

কিন্তু অপরাপর ৯টি দলেরই শাখা প্রশাখা বর্তমান এবং তারা ভিন্ন আকীদায় বিশ্বাসী। 

হযরত গাউস পাক আব্দুল কাদের জিলানী রঃ বলেন খারেজী দলের শাখা ১৪টি, 
শিয়া বা রাফেজী ৩৩টি, 
মোতাযেলার ৬টি, 
মারজিয়ার ১২টি, 
মুশাব্বাহার ৩টি, 
জারারিয়া, 
কালাবিয়াহ,
নাজ্জারিয়া, 
জাহমিয়ার একটি করে মোট ৭৩ টি ফেরকা বর্তমান।

★ মোল্লা আলী ক্বারী বলেছেন,
নাজাতপ্রাপ্ত দলটি হল আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামায়াত।

রেফারেন্স :

মোল্লা আলী কারী (রহ) : মিরকাত শরহে মিশকাত


★ “তোমাদের অবশ্যই তাদের অনুসরণ করতে হবে। বস্তুত আল্লাহ তা’আলা কখনই হুজুরে পাক(সাঃ) এর উম্মাতের বৃহদাংশকে কখনই ভুলে উপর প্রতিষ্ঠিত করবেন না।“ [ইবন আবি শায়বা এই হাদীসের চেইনটিকে sound chain বলেছেন, হাদীস নং ৩৫৪।]

★“বস্তুত আল্লাহ তা’আলা কখনই মুসলমানদের ভুলের উপর একত্রিত করবেন না, আল্লাহ এর করুণা থাকবে সেই জামা’আতের উপর, সুতরাং মুসলাম উম্মাহ এর বৃহদাংশকে অনুসরণ কর। যারা তাদের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করবে তারা নরকে যাবে” [বর্ণনাটি সহীহ, ইবন হাকীম(১/১১৬) এবং ইমাম ধাবাবী(রঃ) উনার সাথে একমত]

৭৩ দল সম্পর্কে বর্নিত হাদিসঃ ভ্রান্তদল গুলোর ভবিষ্যৎবানী (পর্ব ২)


মিলিয়ে নিন এই খারিজী/ওহাবী/সালাফীদের নিয়ে ভবিষ্যৎবানী আর নিজে নিজে তাদের থেকে সতর্ক হয়ে যান :-
written by (MASUM BILLAH SUNNY)

★ খারিজী : ইসলামের সর্বপ্রথম ফিত্নাবাজ দলের নাম। তাদেরই উত্তরসূরী এখনও বিদ্যমান। তাদের থেকেই অধিকাংশ ভ্রান্ত দলগুলোর শাখা-প্রশাখা বের হয়েছে

★ ওহাবীদের সুত্রপাত হয় "আব্দুল ওহাব নজদী" থেকে সে নজদ (পুর্বাঞ্চল) থেকে আবির্ভুত ইসলামের এক জঘন্যতম ফিত্না। আর সেই ওহাবীদের মধ্যে আব্দুল ওহাব নজদী আর তার আকিদা অন্তরের মধ্যে একেবারে গেথে যায়। তার সেই বাতিল সিলসিলার নামই ohabism. 
সেই দলগুলো (বাংলাদেশেঃ হেফাজত/চরমুনাই/জামাত/শিবির/তাবলিগ/আহলে হাদিস)
ভারতে- (দেওবন্দী) নানান নামে নানান রুপে বর্তমানে প্রচলিত আছে !! 
Lider: Abdul Ohab Najdi, Asraf Ali thanvi, Rasid Ahammad Ganggohi,Ismail dehlovi,Shaikh AL ghumari, Shaikh bin Baz, Abul Ala mawdudi (founder of Jamat e Islam), Ahmmad Shafi


সহিহ হাদিস থেকে তাদের লক্ষণ সমূহ জেনে নিনঃ


® রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের মধ্যে মতানৈক্য ও ফিরকা সৃষ্টি হবে। 
- এমন এক সম্প্রদায় বের হবে যারা সুন্দর ও ভাল কথা বলবে।আর কাজ করবে মন্দ।
- তারা কোরআন পাঠ করবে-তা তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। 
- তারা দ্বীন অর্থাৎ ইসলাম থেকে এমনিভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারী থেকে বেরিয়ে যায়।
- তারা সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্টতম জীব।
ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং যুদ্ধে তাদের দ্বারা শাহাদাত বরণ করবে।
- তারা মানুষকে আল্লাহর কিতাব (কোরআন)-এর প্রতি দাওয়াত দেবে,অথচ তারা আমার কোন আর্দশের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
- যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে লড়বে সে অপরাপর উম্মতের তুলনায় আল্লাহ তায়ালার অনেক নিকটতম হবে।
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (দঃ) ! তাদের চিহ্ন কি? হুজুর করীম (দঃ) উত্তরে বললেন,
- (অপ্রয়োজনে) অধিক মাথা মুন্ডন করা।
REFERENCE :
 ★ আবু দাউদ শরীফ,পৃষ্ঠা ৬৫৫,
★ মিশকাত শরীফ,পৃষ্ঠা ৩০৮


® আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্নিত রাসুল (সঃ) বলেছেন আমার উম্মতের ধ্বংস কিছু অল্পবয়স্ক ছেলেদের হাতে। তখন সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলআল্লাহ (সঃ)! তখন আমরা কী করব ?রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, জনগন যদি এদের সংশ্রব (সঙ্গ) ত্যাগ করে দিত তবে ভালই হোত। (বুখারি ৩৩৪৭) 



® হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্নিত, একদা রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি শেষ জামানায় এমন একদল অল্পবয়স্ক অচিন যুবকদের আবির্ভাব ঘটবে -
- যারা মুখে সৃষ্টিকুলের উত্তম বুলি আওড়াবে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হবে যেমন ভাবে ধনুক থেকে তীর বের হয়ে যায়।
- তাদের ঈমান তাদের কন্ঠনালী পার হবে না। 
- তোমরা তাদের যেখানেই পাবে সেখানেই হত্যা করবে।
- যে ব্যাক্তি তাদেরকে হত্যা করবে কেয়ামতের দিনে এ হত্যার জন্য পুরষ্কার পাবে। (হাদিস সহিহ বুখারি ৩৩৪৬) 
Note: (যেহেতু তারাই ইসলামে প্রথম ফিত্নার সূচনাকারী, তারাই হযরত উমর (রা), উসমান (রা) ও আলী (রা) এর হত্যাকারী, তারাই অগনিত সাহাবা ও ইমানদারদের কাফির ফতোয়াদানকারী, যুদ্ধ সূচনাকারী ও ইমানদারদের কতলকারী, শান্তি বিনষ্টকারী। 


★ পথভ্রষ্ট ’আলিম দাজ্জালের চেয়ে ভয়ংকর ★

আবূ যার (রদিঃ) বলেছেন, “আমি নবী ﷺ(সাঃ) -এর 
নিকটে একদিন উপস্থিত ছিলাম
এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি, এমন কিছু রয়েছে যেটির ব্যাপারে আমি আমার উম্মাহ্-এর জন্য দাজ্জালের অপেক্ষাও অধিক ভয় করি।’
তখন আমি ভীত হয়ে পড়লাম, তাই আমি বললাম,
হে আল্লাহ্র রসূল! ﷺ এটি কোন জিনিস, যার ব্যাপারে আপনি আপনার উম্মাহ্-এর জন্য দাজ্জালের চাইতেও অধিক ভয় করেন?’

তিনি [নবী ﷺ] বললেন, ‘পথভ্রষ্ট ’আলিম গণ।’”

[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০৩৩৫]

এবার এই হাদিসটা পড়ে নিজেই বলুন বর্তমানে কারা বেশি বেশি শিরিক -বিদাত,শিরিক-বিদাত বলে সুন্নীদের ফতোয়া দেয়? ওহাবী আর আহলে হাদিস ছাড়া আর কে?দেখুন ভবিষ্যৎবানী :-




হযরত হুযায়ফা ইবন আল ইয়ামান (রাঃ) বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – বস্তুতই, আমি এক মানুষ সম্পর্কে ভয় করি যে কুর’আন অধিক পরিমাণে পড়বে। ফলে তার মুখ আলোকিত হয়ে যাবে এবং ইসলামকে ভালভাবে প্রকাশ করবে। আল্লাহ যতক্ষণ চান ততক্ষণ পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। এরপর তার তা ছিনিয়ে নিয়া হবে যখন সে প্রতিবেশী মুসলমানদের অগ্রাহ্য করবে, এবং তাদেরকে শিরকের দায়ে অভিযুক্ত করবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হল, এদের মধ্যে আসলে কে শিরক করবে - দোষারপকারী নাকি অভিযুক্ত ব্যক্তি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন দোষারপকারী (যে অন্যদের শিরকের দায়ে অভিযুক্ত করেছে)
Reference :-

** নাসিরুদ্দিন আলবানীর তাহকীককৃত ইবন হিব্বানের সহীহ; ভলিঃ ০১, পৃঃ ২০০, হাদীসঃ ৮১ স্ক্যান কপিঃ
http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=79

** ওহাবী নেতা নাসিরুদ্দিন আলবানী তার সিলসিলাত আল-হাদীস আল-সহীয়াহ তে হাদীসটিকে হাসান বলেছে; ভলিঃ ০৭-A, পৃঃ ৬০৫, হাদীসঃ ৩২০১ # ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ তে; ভলিঃ ০১, পৃঃ ২৮২
** বুখারী তাঁর তারিখুল কাবীর এ; ভলিঃ ০৪, পৃঃ ৩০১
** হায়তামী তাঁর মাযমা আয-যাবীদ এ; যেখানে তিনি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন
** ইবন কাসীর তাঁর তাফসীর এ হাদীসের চেইনটিকে শক্তিশালী বলেছেন; সূরা আল-আ’রাফ, ভলিঃ ০২, পৃঃ ২৬৬
** মুসনাদ আবু ইয়ালা


এই উক্তিটি যদি calculation করেন আল্লাহর কসম সুন্নীদের ছাড়া আর কাউকে দেখবেন না কারন সুন্নীরা যাই করে তাই ওহাবীদের কাছে শিরিক মনে হয়।
-- মিলাদ কিয়াম শিরিক বিদাত বলেঃ 
www.goo.gl/ndcJxe

-- ওসীলা চাওয়াকেও শিরিক বিদাত বলেঃ
http://goo.gl/KEFuQZ

-- মাযারে যারা যায় তাদের মাযার পুজারী বলেঃ
www.goo.gl/udCPYC

-- আজ-কালিমা শরীফের মধ্যে রাসুল(সা) এর নাম নেয়া এটাও শিরিক ফতোয়া দিয়ে দিয়েছে অনেক মসজিদ থেকে ইতিমধ্যে কালিমা থেকে মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ নামও মুছে দিয়েছে। 
http://goo.gl/NH0BLj

-- নবীজী (সা) নুর মানলে নাকি শিরিকঃ
http://sunni-encyclopedia.blogspot.com/2017/06/pdf_60.html?m=1

-- নবীজী(সা) এর আল্লাহ প্রদত্ত ইলমে গায়েব মানা নাকি শিরিকঃ
www.goo.gl/8zgRB1

-- পা ধরে সালাম করা কিংবা কদম্বুচি করা শিরিকঃ
http://goo.gl/onPXKs

-- রাসুল (সাঃ) কে হাজির নাজির মানা নাকি শিরিকঃ
http://sunni-encyclopedia.blogspot.com/2015/05/blog-post_24.html?m=1

(নাউযুবিল্লাহ)
আরো অগনিত কারণ রয়েছে উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না।

রাসুল (সাঃ) আমাদের নিয়ে মুশরিক হয়ে যাবার আশংকা করেন না অথচ ওহাবী-সালাফীরা তাই করেঃ

® রাসুল (সা) বলেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি আমার – হাওয কে এখন দেখছি। আমাকে তো যমীনের ধনাগারের চাবিসমূহ অথবা যমীনের চাবিসমূহ দেয়া হয়েছে। 
আল্লাহর কসম ! আমি তোমাদের উপর এ আশংকা করছি না যে, তোমরা আমার পরে মুশরিক হয়ে যাবে (অর্থাৎ শিরিক কারী করবে)।
 (বোখারী ৮ খণ্ড, ৭৬ অধ্যায়, ৪৩৪ নং হাদিস)

আহলে হাদিস ওরুফে সালাফীবাদ / Salafism:-
Lider : Ibn Taymiaah, Ibn Qiyum, Imam Sawkani , Nasir uddin Al-Bani,
Dr. Jakir Naik, Billal philips, Shaikh Motiur Rahman Madani , Abdullah Jahangir etc.


আহলে হাদিসরা ওহাবীদের আরেক শাখা-প্রশাখা। 
তারা আবার মাযহাব মানাকে শিরিক ফতোয়া দেয় দেখুন ইমাম গনের তাকলিদ হাদিস থেকে :-

তিনি আরও বলেন

তুমি অবশ্যই মুসলমানদের জামায়াত ও তাঁদের ইমামের অনুসরণ করবে ।

— সহিহ বুখারী, খ ৪, পৃঃ ১৯৯, হাদিস নং ৩৬০৬; সহিহ মুসলিম, সহিহ বুখারী, খ ৩, পৃঃ ১৪৭৫, হাদিস নং ১৮৪৭

অতঃপর তোমরা মুসলামান দের বৃহৎ দলকে অনুসরণ কর । কেননা যারা বৃহৎ দল হতে বের হবে তারা দোযখে পতিত হবে ।

— আল মুসতাদরাকু লিল হাকিম, প্রথম প্রকাশ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ্‌, বৈরুত, ১৪১১ হিঃ) খ ১, পৃঃ ১৯৯, হাদিস নং ৩৯১; সুনানু ইবনি মাজাহ্‌, ইমাম ইবনু মাজাহ্‌, প্রাগুক্ত, খ ২, পৃঃ ১৩০৩, হাদিস নং ৩৯৫০

এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ্‌ হিদায়াত করেছেন । অতএব তাঁদের হিদায়াত তুমি অনুসরণ কর ।

— সূরা আন’আম ৯০

স্মরণ করো, যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাঁদের ইমামসহ ডাকব ।

— সূরা ঈশরা ৭১

যদি তোমরা না জানো, তবে যারা জানে তাঁদের জিজ্ঞেস করো ।

— সূরা নাহল ৪৩

হে ইমানদারগণ ! তোমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, আরও আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যে যারা ‘উলুল আমর’ তাঁদের ।

— সূরা নিসা ৫৯

উলুল আমর বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে- এ সম্পর্কে কারো কারো মত হলো- 


® উলুল আমর মুসলমান ফকীহ্‌গন । আবার কেউ কেউ বলেছেন- উলুল আমর বলতে কীহগনকে বুঝানো হয়েছে । (ইবনে জারির তাবারী, তাফসীরু জামিউল বায়ান, খ ৫, পৃঃ ৮৮)

® হযরত ইমাম রাজী (রঃ) এই দ্বিতীয় মতটিকে দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা প্রাধান্য দিয়েছেন । তারপর তিনি লিখেছেন- এই আয়াতে ‘উলুল আমর’ বলতে 
উলামায়ে কেরামকে বুঝানো হয়েছে, এটাই সঠিক মত । (ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ ফখরুদ্দিন রাযী, মাফাতিহুল গাইব, খ ৩, পৃঃ ৩৩৪) 

১২০০ বছর আগের ইমাম থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর সার্টিফিকেটঃ
মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন (রহ) [ওফাত ১১০ হিঃ] স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারক হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস।

তিনি বলেন, প্রথম প্রথম লোকেরা হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না কিন্তু যখন ফেতনা, বেদআত ও মন গড়া বর্ণনা প্রসার হতে লাগল তখন হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা অপরিহার্য হয়ে গেল। যদি হাদীস বর্ণনাকারী আহলুস-সুন্নাহ হত, তাহলে তা গ্রহণ করা হত আর যদি বর্ণনাকারী বিদআতপন্থি হত তাহলে তার হাদীস গ্রহণ করা হত না। (মুসলিম)

কেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতই একমাত্র সঠিক দল?



® অসংখ্য সহিহ হাদিসে এসেছে,

"নিশ্চয় বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত।  
আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। 
১টি দল ব্যতীত এই সব দলই জাহান্নামে যাবে।
সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন-সেই দলটি কারা? 

নবীজী সাঃ বললেন-যারা আমার ও আমার সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করবে।


Note: 
ইমান (আকিদা) ও আমলগত দিক থেকে - 
→ রাসুলের অনুসরণের নাম ""সুন্নাত"""
→ আর সাহাবাগন-তাবেঈ-তাবে তাবেঈগনের অনুসরণ মানে """ঐক্যবদ্ধ/জামায়াত"""
অর্থাৎ উল্লেখিত শব্দগুলোর বিশ্লেষণ হল (সুন্নাত ওয়াল জামাত)

[explained 
by 
Masum 
Billah Sunny]









Reference :
★ তিরমিযিঃ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১, 
★ তাবারানীঃ আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯, 
★ তাবারানীঃ আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯, ★ কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০।


® রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
(আমার) এই উম্মাহ পথভ্রষ্টতা (বা গোমরাহীর) উপর কখনও একত্রিত হবে না (অর্থাৎ ভ্রান্তির উপর এই জামায়াত ঐক্যমত পোষন করবে না) এবং আল্লাহর সাহায্য রয়েছে সেই জামায়াতের সাথে।
(অনুবাদ- মাসুম)


Reference :
★ Ibn Majah 3940 Sahih
★ Suyuti : Jami’ Saghir 2221
★ Tirmidhi : Kitabul Fitan 2093
★ Abu Dawud 3711 
★ Nasa’i : Sunan Kubra, 3483
★ Bayhaqi : Asma’ wa Sifat (p. 322 Sahih)
★ Bayhaqi Shu’ab al-Iman (6:67 #7517), 
★ Abu Nu’aym (Hilya, 3:37, 9:238),
★ Mostadrak Al Hakim (1:115-16, 4:556 Sahih), ‘
★ Abd ibn Humayd (Al Musnad, #1218), 
★ Imam Ahmad (Al Musnad, #25966), 
★ Darimi : As-Sunan (#54, Da’if), 
★ Diya’ al-Maqdisi (7:129), 
★ Quda’i (1:167 #239), 
★ Daraqutni in his Sunan (4:245), 
★ Ibn Abi Shayba (8:604, 672, 683), 
★ Tabarani in his Mu’jam al-Kabir (1:153, 1:186, 3:209, 12:447, and 17:239-40, Sahih)
★ Haythami in his Majma’ 5:218-19
★ Mu’jam al-Awsat (5:122, 6:277, 7:193), 
★ Ibn Abi ‘Asim in his Kitab as-Sunna (p. 39-41 #80-85, p. 44 #92), and others.
And it is well-known and authentic.

খারিজীদের ভ্রান্ত আকিদাসমুহঃ


খারিজীদের ভ্রান্ত আকীদা ও মতবাদসমূহঃ
১) যারা মুসলমান হওয়ার দাবিদার হয়ে অন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং এহেন পরিস্থিতিতে যুদ্ধরত হতে বের হয়ে না আসে তারা কাফির । (নাউজুবিল্লাহ)
২) খারিজীরা তাদের ধারনায় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী । তাদের মতে, খলীফাকে অবশ্যই সমগ্র মুসলিম কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে । কোন বিশেষ শ্রেনী-গোত্র কিংবা সম্প্রদায়ের মধ্যে খিলাফত সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে যে কোন মুসলমান এ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবে । (নাউজুবিল্লাহ)
৩) তারা হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত উমার (রাঃ) কে ইসলামের বৈধ খলীফা বলে মনে করে এবং অন্যান্য খলীফাকে অবৈধ বলে ঘোষনা করে । (নাউজুবিল্লাহ)
৪) কবীরা গুনাহ খারিজীদের কাছে কুফরীর শামিল । কোন মুসলমান নামায, রোযা ও অন্যান্য ফরয কাজসমূহ পালন না করলে কিংবা কবীরা গুনাহে লিপ্ত হলে সে কাফির হয়ে যায় । (নাউজুবিল্লাহ)
৫) তাদের মতে, যে মুসলমান কবীরা গুনাহ করে এবং তওবা না করে মারা যায় সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী । (নাউজুবিল্লাহ)
৬) খারিজীদের মতে, যারা তাদের আকীদার সঙ্গে একমত না, তারা ধর্মদ্রোহী তথা কাফির । এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অপরিহার্য । (নাউজুবিল্লাহ)
৭) যে ব্যক্তি শক্তি থাকা সত্ত্বেও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ না করে সে কাফির । (নাউজুবিল্লাহ)
৮) খারিজী সম্প্রদায় আরও বিভিন্ন বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিপরীত আকীদা পোষন করে । যেমন তারা 'মোহসিন' (বিবাহিত) যিনাকারীকে রজম করার শাস্তি অস্বীকার করে । চুরির অপরাধে বাহুর গোড়া পর্যন্ত হাত কাটার শাস্তি নির্ধারণ করে । মহিলাদের মাসিক হায়িয অবস্থায়ও তাঁর জিম্মায় নামায পড়া ওয়াজিব বলে মনে করে ইত্যাদি । (নাউজুবিল্লাহ)
তথ্যসূত্র
ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

সংগ্রহিতঃ
http://www.sunnipediabd.com/wiki/

Saturday, June 17, 2017

খারিজী ফিত্নার উৎস ও ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনাঃ

খারিজীরা ইসলামের সর্বপ্রথম বিপথগামী সম্প্রদায় । আকীদা, আমল ও খিলাফত সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করে তারা নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহ্‌ থেকে আলাদা করে ফেলে । রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা পুনঃ পুনঃ বিদ্রোহ করে সাময়িকভাবে খিলাফতে রাশিদার শেষ দুই বছর এবং উমাইয়া আমলে মুসলিম রাষ্ট্রের পূর্বাংশে অশান্তি সৃষ্টি করে; হযরত আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধে আব্বাসীগণকে যুদ্ধে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছিল।


'আল-মিলাল ওয়ান নাহল' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছেঃ
খারিজী ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের বলা হয় যারা এমন নিয়মতান্ত্রিক ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে তাঁর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যায়; যার ইমামতের আনুগত্যের প্রতি মুসলিম জনগন একমত পোষণ করেছেন । চাই এ বিদ্রোহ সাহাবায়ে কিরামের যামানার আইম্মায়ে রাশিদীনের বিরুদ্ধে হোক কিম্বা তাবিঈনের সময়কার মুসলিম জনগন স্বীকৃত ইমামগণের বিরুদ্ধে হোক অথবা পরবর্তী যুগের প্রতিষ্ঠিত ইমামগণের বিরুদ্ধে হোক, সকলেই খারিজীদের অন্তর্ভূক্ত ।
— ইমাম শাহরাস্তনী (রহঃ) [1808-1864]  : আল-মিলাল ওয়ান নাহল, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৪
download full kitab: https://catalog.hathitrust.org/Record/006551349

★ ↑ সংক্ষিপ্ত ইসলামিক বিশ্বকোষ, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৬-৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
★ ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

খারিজী শব্দটির অর্থ হলো দলত্যাগী । মুসলিম জামা'আতকে পরিত্যাগ করায় খারিজীরা উক্ত নামে অভিহিত করা হয় ।

হযরত আলী (রাঃ) কে শহীদ করে তারাঃ

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ৬৫৭ খৃষ্টাব্দে হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর মধ্যে সিফফিন নামক স্থানে তুমুল যুদ্ধ বাঁধে । যুদ্ধে হযরত মু'আবিয়া (রাঃ) নিশ্চিত পরাজয় অনুধাবন করেন । ফলে তাঁর দলের কতক লোক কুরআন শরীফ উর্দ্ধে উত্তোলন করে হযরত আলী (রাঃ) এর কাছে সন্ধির প্রস্তাব করেন । হযরত আলী (রাঃ) ও তাঁর অধিকাংশ সঙ্গী সন্ধি প্রস্তাবে সম্মত হন এবং দু'দল থেকে এতে দু'জন সালিস নিযুক্ত করা হয় । কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) এর একদল সমর্থক এ সালিসী প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো ফয়সালা চলবে না; এ আওয়াজ তুলে তাঁর দল পরিত্যাগ করে । এ দলত্যাগী খারিজীরা আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাবকে তাদের দলপতি নির্বাচন করে, তাঁর নেতৃত্বে নাহরাওয়ান নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে । পরে খারিজীরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে হযরত আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধে প্রচারনা প্রচারনা চালাতে থাকে । হযরত আলী (রাঃ) এ সংবাদ পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন । নাহরাওয়ানে সংঘটিত যুদ্ধে খারিজীদের নেতা আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাবসহ বহুসংখ্যক খারিজী নিহত হয় । এতে খারিজীরা অতিশয় ক্রোধান্বিত হয়ে হযরত আলী (রাঃ), হযরত মু'আবিয়া (রাঃ) ও তাঁর উপদেষ্টা মিসরের শাসনকর্তা আমর ইবন আস (রাঃ) কে ইসলামের শত্রু হিসেবে স্থির করে এ তিনজনকে হত্যা করার জন্য বদ্ধপরিকর হয় । হযরত মু'আবিয়া ও হযরত আমর ইবন আস (রাঃ) কোনোক্রমে বেঁচে যান । কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) আততায়ী আব্দুর রহমান ইবন মুলযিমের হাতে শহীদ হন ।

খারিজীদের অন্যান্য ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রঃ

হযরত আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের পর খারিজীরা নীরবে বসে থাকেনি । উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালধরে প্রচারনা চালাতে থাকে এবং আব্বাসীয়দের সাথে যোগাযোগ করে উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত করে । আব্বাসীয় শাসকগণ যখন মসনদে সমাসীন হন, তখন খারিজীরা তাদেরও বিরোধিতা করে । এবং মেসোপটেমিয়া পূর্ব আরব ও উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অশান্তির সৃষ্টি করে । 

খারিজী সম্প্রদায়ের ধ্বংসঃ
অবশেষে মিসরের ফাতেমী শাসকগণ খারিজীদের শক্তি সমূলে ধ্বংস করে দেন । ফলে রাজনৈতিক প্রচারণা বর্জন করে তারা শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হয় ।

খারিজীদের সম্পর্কে হাদিসে বর্নিত ভবিষ্যৎবানীঃ

আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হারুরিয়াদের সম্পর্কে বর্ননা প্রসঙ্গে বলেন, নবী করিম (সঃ) বলেছেন, তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায় । (সহিহ হাদিস)

পোস্টটি নেয়া হয়েছে এখান থেকেঃ-
http://www.sunnipediabd.com/wiki/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%80

সেহরী না খেলে কি রোজা ভেঙে যায়?

ধন্যবাদ খুবই দরকারি একটি প্রশ্ন। সেহেরী খাওয়া হচ্ছে সুন্নত আর রোজা  পালন করা ফরজ্‌।কোন একটি সুন্নতের কারনে কোন ফরজ ইবাদত  বাদ দেয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত  করা যেতে পারে না। আর রোজার কোন মৌখিক নিয়ত আদতে নেই, মনে মনে যে যে প্রস্তুতি নেয়া হয় যে কোন ধর্মীয় কাজের জন্যে সেটাই নিয়ত। এটা রোজার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত কারনে সেহেরী খেতে সক্ষম না হয়, এমন কি এক ফোঁটা পানি পান করার সুযোগ না পায় তবুও তার ফরজ রোজা চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। তবে আল্লাহ মানুষের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন।
যদি কেউ রোজা রাখতে অক্ষম অর্থাৎ অসুস্থ হয়ে গিয়ে সব ধরনের ফরজ নামাজ ছেড়ে দেয়ার আশংকা থাকে কিংবা দুরবর্তী কোন সফরে থাকে সে ক্ষেত্রে সে রোজা ভাঙতে পারবে কিন্তু কেউ যদি এক গ্লাস পানি পান করারও সুযোগ পায় তবে সেই পানিটুকুই  তার সেহেরী হিসেবে গণ্য হবে আর তার আমল নামায় একটি সুন্নত লেখা হবে। সেহেরী খাওয়া হয়নি এই অজুহাতে রোজা পালন থেকে বিরত থাকা ফরজের বরখেলাপ যেটা কবিরাহ গুনাহ।
Allah knows All.

হাজারো কষ্ট আর কুরবানীর মধ্য দিয়ে ইসলাম জীবিত হয়েছিল আজ আমাদের একি অবস্থা?

আপনি কি খুব কষ্টে আছেন? ইবাদত করতে খুব কষ্ট হয়? নিজের রক্ত ঝরিয়ে ইসলাম পেতে হয় নি তো তাই অল্প তেই ধৈর্যহারা।


তোমার কষ্ট বেশি নয় বন্ধু! 
বিসমিল্লাহ। আলহা’মদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা রাসুলিল্লাহ। 
তোমার থেকে অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম। সমস্ত নবী ও রাসুলদের সর্দার, বিশ্বজগতের জন্যে রহমত স্বরূপ, এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়তম বান্দা. . .এতো বড় মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কত কষ্ট পেয়েছেন তিনি, তাহলে তুমি কে? তুমি তাঁর কথা স্বরণ করে সান্ত্বনা নাও।

(★) মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ মসিবতে (অর্থাৎ দুঃখ-কষ্ট কিংবা বিপদ-আপদে) পড়ে, তখন সে যেন আমার জীবনের মসীবতের কথা স্বরণ করে (সান্ত্বনা নেয়)। কারণ আমার জীবনের মসীবত তোমাদের সবার মসিবতের চাইতে বড়।” [ইবনে সা’দ, সহীহুল জামিঃ ৩৪৭] . 

(★) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ) এর চাইতে অধিক রোগ যাতনা ভোগকারী অন্য কাউকে দেখিনি। (হাদিস ৫৫০)


(★) মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মের পূর্বে, মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই তাঁর পিতা মারা যান। ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতাও ইন্তিকাল করেন। আট বছর বয়সে দাদা ইন্তিকাল করেন। 
(★) নামাযের সেজদারত অবস্থাতে তাঁর ঘাড়ে উটের নাড়ি-ভূড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এতো ভারী ছিলো যে, সেই নাড়ি-ভূড়ির কারণে তিনি সেজদাহ থেকে মাথা তুলতে পারছিলেন না। 
(★) তায়েফে পাথর ছুঁড়ে তাঁকে এতো আহত করার হয়েছিলো যে, শরীরের আঘাত থেকে রক্তের ধারা প্রবাহিত হয়ে তাঁর দুইপা রঙ্গিন হয়ে গিয়েছিলো। আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন আবার জ্ঞান ফিরে আসে পুনরায় পাথর মারা হয়।
(★) নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরকে সহ তাঁকে একঘরে করে ‘শিবে আবী তালেব’ নামক একটি পাহাড়ের উপত্যকায় দুই বা তিনি বছর ধরে অবরোধ করে রাখা হয়েছিলো। সে সময় খাবার না পেয়ে, চরম দারিদ্রতা ও ক্ষুদার কারণে তাঁরা সবাই পশুর চামড়া এবং গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। 
(★) এমনকি নিজের মাতৃভূমি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। জীবন রক্ষার জন্যে তিনি মদীনাতে হিজরত করে চলে যান। 
(★) তাঁর কত সাথী ও অনুসারীদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো। 
(★) উহুদের যুদ্ধে তাঁর দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিলো। 
(★) তাঁর নিষ্পাপ, পবিত্র স্ত্রীর চরিত্র সম্পর্কে জঘন্য অপবাদ দেওয়া হয়েছিলো। 
(★) একটি মাত্র মেয়ে ছাড়া তাঁর দুই ছেলে এবং তিন মেয়ে, কলিজার টুকরা মোট পাঁচজন সন্তান তাঁর জীবদ্দশায়, চোখের সামনেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন। 
(★) ক্ষুদার তাড়নায় তিনি পেটে পাথর বেঁধেছিলেন, দিনের পর দিন তাঁর বাড়িতে রান্নার জন্যে চুলা জ্বলতোনা। 
(★) লোকেরা তাঁকে পাগল, কবি, মিথ্যাবাদী, জাদুকর ইত্যাদি বলে গালি দিতো।
(★) কতবার তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। একবার তাঁর মাথার উপরে পাথর ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো, আল্লাহর তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। আরেকবার এক ইহুদী মহিলা খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলো। সেই খাবার খেয়ে একজন সাহাবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আর এই বিষের যন্ত্রনায় কলিজা ছিঁড়ে গেলে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি কষ্ট তিনি মৃত্যুর পূর্বে ভোগ করেছিলেন।


তুমি আরো জানো যে, 

★ করাত দিয়ে চিড়ে যাকারিয়া নবীকে দুই খন্ড করে হত্যা করা হয়েছিলো। 
★ যাকারিয়ার পুত্র আরেক ইয়াহইয়া নবীকেও খুন করা হয়েছিলো। 
★ইব্রাহীম নবীকে বিশাল বড় আগুনে ফেলে দেওয়া হয়েছিলো। 
★ চরম বালা (পরীক্ষা) দেওয়া হয়েছিলো আইয়ুব নবীকে (দেহ মোবারকে ধৈর্যের পরীক্ষা স্বরুপ পচন ধরেছিল)।
★ মসীবতে ফেলা হয়েছিলো ইউনুস নবীকে (মাছ খেয়ে ফেলেছিল)। 
★ হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো ঈসা নবীকে। 

আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি ও দয়া বর্ষণ করুন। 

★ এছাড়াও মসজিদের ভেতরে নামায পড়া অবস্থাতে খঞ্জর মেরে শহীদ করা হয়েছিলো দ্বিতীয় খলিফা উমারকে।
★ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ক্বুরান তেলাওয়াত করা অবস্থাতে খুন করা হয়েছিলো তৃতীয় খলিফা উসমানকে।
★ বিষাক্ত ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছিলো চতুর্থ খলিফা আলীকে। 
★ বর্শা দিয়ে লজ্জাস্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিলো এই উম্মতের প্রথম শহীদ সুমাইয়াকে। 
★ শহীদদের সর্দার, নবীর প্রাণপ্রিয় আপন আপন চাচা ও দুধভাই হামযাকে হত্যা করা হয়েছিলো, মৃত্যুর পরে তাঁর কলিজা খেয়েছিলো এক মুশরেক মহিলা (হিন্দা), অবশ্য পরে সেই মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেছিলো রাসুলের কাছেই।
★ একজন ক্বুরানের হাফেজ সাহাবীকে বর্শা দিয়ে এমনভাবে বিদ্ধ করেছিলো যে সেই বর্শা বুকের একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেকপাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলো। তবুও মৃত্যুর পূর্বে সে চিৎকার করে বলেছিলো, কাবার রব্বের কসম! আমিতো সফলকাম হয়ে গেছি। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।
★ কারবালায় নির্মম ভাবে শহীদ করা ইমাম হোসাইন (রা) ও আহলে বাইয়াতগণকে।

আহা এত কষ্টের মধ্য দিয়ে দ্বীন ইসলাম জিন্দা হয়েছিল। আজ আমাদের দ্বীনের একি করুন দশা।
আল্লাহ 
পাক 
আমাদের 
হেদায়াত ক
রুন।


কুরআন তেলাওয়াত শুনে আসমান থেকে ফেরেশতা নেমে আসলঃ-


হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রাঃ ) থেকে বর্ণিত। উসাইদ ইবনে হুদাইর ( রাঃ ) বলেন যে, তিনি একরাতে নিজের ঘরে বসে নামাজের মধ্যে সূরা বাকারা পড়ছিলেন। তাঁর ঘোড়াটি নিকটেই বাধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি লম্ফ- ঝম্ফ শুরু করে দিলো। তিনি তখন তেলাওয়াত বন্ধ করলেন ঘোড়াটি শান্ত হয়ে গেলো। তিনি যখন পুনরায় তেলাওয়াত শুরু করলেন ঘোড়াটি আবার লাফ-ঝাপ শুরু করে দিলো। অতঃপর তিনি পাঠ বন্ধ করলেন। ঘোড়াটিও শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। তিনি আবার কুরআন পড়া শুরু করলে ঘোড়াটিও দৌড়ঝাঁপ করতে লাগলো। তিনি সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করে নিলেন। কারন তাঁর ছেলে ইয়াহিয়া ঘোড়ার নিকটেই ছিল। তাঁর ভয় হল ঘোড়া হয়তো লাফালাফি করে ছেলেকে আহত করতে পারে। তিনি ছেলেকে এর কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে আসমানের দিকে মাথা তুললেন। তিনি ছাতার মত একটি জিনিস দেখতে পেলেন এবং তাঁর মধ্যে আলোকবর্তিকার মতো একটি জিনিস দেখলেন। সকালবেলা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন- হে ইবনে হুদাইর, তুমি পড়তে থাকলে না কেন? হে ইবনে হুদাইর, তুমি পড়তে থাকলে না কেন? রাবী বলেন- আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমার ভয় হল ঘোড়াটি না আবার আমার ছেলে ইয়াহিয়াকে পদদলিত করে। কেননা সে এর কাছেই ছিল। আমি নামাজ শেষ করে সালাম ফিরিয়ে ছেলেটির কাছে গেলাম। আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হঠাৎ দেখতে পেলাম- যেন একটি ছাতা এবং তাঁর মধ্যে একটি আলোকবর্তিকা জ্বলজ্বল করছে।

আমি ( ভয় পেয়ে ) সেখান থেকে চলে আসলাম ( অর্থাৎ খোলা আকাশের নীচ থেকে ) যেন আমার দৃষ্টি পুনরায় সেদিকে না যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তুমি কি জান এগুলো কি? তিনি বললেন, না। রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেন- এরা ছিল ফেরেশতা। তোমার কুরআন পড়ার আওয়াজ শুনে তারা কাছে এসে গিয়েছিলো। তুমি যদি তেলাওয়াত অব্যাহত রাখতে তাহলে তারা ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতো এবং লোকেরা তাঁদের দেখে নিতো কিন্তু তারা লোক চক্ষুর অন্তরাল হতো না। —– ( বুখারী ও মুসলিম )

যেভাবে ব্লগে সাইট তৈরি করবেনঃ

১) এর জন্য আপনার ১টি gmail id লাগবে ।  যদি id না থাকে তবে  www.gmail.com  এ গিয়ে signup করুন। ২) যদি gmail id থাকে তবে  www.blogspot.com...